অবস্থান পৃথিবীর ‘কেন্দ্রে’, রয়েছে ১৯৯টি লিফ্ট, ‘নিজস্ব’ মেট্রো! চিনের এই ‘অবাস্তব’ মলে নামে হেলিকপ্টারও। এ বিশ্বে এমনও এক শপিং মল রয়েছে যেখানে ঘুরতে গেলে হারিয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। বেশির ভাগ মানুষ প্রথম বারের জন্য সেই শপিং মলে গেলে হারিয়েই যান। কারণ, প্রায় একটি পাড়াসমান অঞ্চল জুড়ে শপিং মলটি অবস্থিত।
পুজো মানেই শপিং মলে কেনাকাটা করতে যাওয়া। শপিং মল মানেই উন্নত মানের নির্মাণকার্য। আকাশছোঁয়া উঁচু বিল্ডিং জুড়ে প্রসাধনী, খাবার প্রভৃতি নানা সামগ্রীর দোকানপাট। এরই সঙ্গে থাকে বাচ্চাদের খেলায় জায়গা, প্রেক্ষাগৃহ, রেস্তরাঁ, সেলুন প্রভৃতি।

আজকাল বহু মানুষ ছুটির দিনে পরিবারকে নিয়ে শপিং মলে ঘুরতেও যান। কেবল শহুরে মানুষদের কাছেই নয়, শহরতলি এবং মফস্সলের মানুষদের কাছেও শপিং মল ছুটির দিনে ঘুরতে যাওয়ার জায়গা হয়ে উঠেছে। সেখানে বাচ্চাদের জন্য যেমন বিভিন্ন আকর্ষণীয় সময় কাটানোর জায়গা পাওয়া যায়, তেমনই বাচ্চার মা-বাবারাও আমোদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পারেন।

তবে এ বিশ্বে এমনও এক শপিং মল রয়েছে যেখানে ঘুরতে গেলে হারিয়ে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। বেশির ভাগ মানুষ প্রথম বারের জন্য সেই শপিং মলে গেলে হারিয়েই যান। কারণ, প্রায় একটি পাড়াসমান অঞ্চল জুড়ে শপিং মলটি অবস্থিত।

কথা হচ্ছে চিনের অন্যতম বৃহৎ শপিং মল ‘চাংশা ওয়ানজিয়ালি ইন্টারন্যাশনাল শপিং প্লাজ়া’কে নিয়ে। এটি চিনের হুনান প্রদেশের চাংশায় অবস্থিত। বিশেষ এই শপিং মলটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম শপিং মল হিসাবে পরিচিত।

মজার বিষয় হল, বৃহদাকার এই শপিং মলটির গোটাটাই একটি কাঠামোয় তৈরি। এটি বিশ্বের বৃহত্তম একক কাঠামোয় তৈরি বিল্ডিং।

চিনের হুনান প্রদেশে ওয়ানজিয়ালি মলকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যা মহাকাশ থেকে দেখলে মনে হয় যেন পৃথিবীর একদম কেন্দ্রে মলটি অবস্থিত।

ওয়ানজিয়ালি মলে মোট ২৮টি তলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি তলা ভূগর্ভস্থ এবং বাকি ২৬টি তলা মাটির উপরে রয়েছে। গ্রাহকদের এই মলের ছাদে যাওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়।

চিনের এই বহুতল শপিং মলের অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হল সেটির ছাদ। ওয়ানজালির ছাদে ৮টি হেলিপ্যাড লাগানো রয়েছে। সেখান থেকে পুরো চাংশা শহরকে চাক্ষুষ করা যায়। বিশেষ করে গোধূলি লগ্নে পর্যটকেরা এই মলের ছাদে ভিড় জমান। সেখান থেকে সূর্যাস্তের রূপ দেখতে অতুলনীয় লাগে।

ওয়ানজিয়ালি শপিং মলটি মোট পাঁচ লক্ষ ৭০ হাজার বর্গমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত, যা দুবাইয়ের বুর্জ খালিফার মোট আয়তনের থেকে বেশ বড়।

বিশাল এই শপিং মলে যে প্রতি দিন হাজার হাজার মানুষ কেনাকাটা করতে, এমনকি শুধু ঘুরতেও যান। সেই কথা মাথায় রেখে এখানে গাড়ি রাখারও এলাহি ব্যবস্থা করা রয়েছে। ওয়ানজিয়ালিতে ২৬০০টি গাড়ি পার্কিং-এর জায়গা রয়েছে।

এখানেই শেষ নয়। বহুতল ভবনে পর্যটকদের ওঠানামার সুবিধার কথা ভেবে রাখা হয়েছে ১৯৯টি লিফ্ট। পাছে কোনও পর্যটক সিঁড়ি বেয়ে ওঠার দুঃসাহসিকতা না দেখান, হয়তো সেই কথা মাথায় রেখেই এতগুলি লিফ্টের বন্দোবস্ত করেছেন ওয়ানজিয়ালির নির্মাতারা।

অবাস্তব শোনালেও, মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে বিশাল এই শপিং মল তৈরি করা হয়ে যায়। ২০১১ সাল থেকে এই মলটি বানানো শুরু হয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে জনসাধারণের জন্য এই শপিং মল খুলে দেওয়া হয়।

ফুড কোর্ট এবং বিভিন্ন নামী সংস্থার দোকান ছাড়াও এই শপিং মলে রয়েছে বিলাসবহুল হোটেল, অফিস এবং সাংস্কৃতিক গ্যালারি। অর্থাৎ, আপনার যদি নামী বিপণি থেকে কিছু কেনার ক্ষমতা না-ও থাকে, সে ক্ষেত্রে অসুবিধা নেই। কেনাকাটার বাইরেও এখানে দেখার জিনিসের অভাব নেই।

চাংশার এই বহুতলের ছাদেও রয়েছে নানা ভাস্কর্য। সূর্যাস্তের সময় সেখানে উঠে চাংশার সৌন্দর্য ছাড়া চিনের ইতিহাস সম্বন্ধেও জানতে পারা যাবে।

চাংশার মেট্রো স্টেশনের সঙ্গে এই শপিং মলের সরাসরি যোগ রয়েছে। চাংশার মেট্রো স্টেশনের দুই এবং পাঁচ নম্বর দরজা থেকে সরাসরি এই মলের ভিতর প্রবেশ করা যায়।

একই কাঠামোয় তৈরি এই বহুতল ভবনকে অনেকে চিনের এক অন্যতম স্থাপত্য বলে দাবি করেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে চিনে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের কাছে এই শপিং মল একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটনস্থানের থেকে কম কিছু নয়।