বিশ্বের বৃহত্তম স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক স্টারলিংকের সর্বশেষ ব্যবহারকারী টার্মিনালের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে চীন ও সিঙ্গাপুরের একটি সাইবার নিরাপত্তা গবেষক দল।
‘ডার্কনেভি’ নামের স্বাধীন সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অত্যাধুনিক হার্ডওয়্যার আক্রমণের মাধ্যমে তারা স্টারলিংক টার্মিনালের পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে ডিভাইসগুলোতে নিজেদের তৈরি কোড চালানোর সুযোগ পেয়েছেন গবেষকেরা।
সিঙ্গাপুর ও সাংহাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই সাফল্য স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে আরও গভীর গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এর আগে টার্মিনালের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করা সম্ভব না হওয়ায় সিস্টেমটির নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা অনেকটাই সীমিত ছিল।
স্টারলিংক হলো স্পেসএক্সের নিম্ন-পৃথিবীর কক্ষপথে (LEO) পরিচালিত স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা। এর ব্যবহারকারী টার্মিনালগুলো কক্ষপথের স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। পরে স্যাটেলাইটগুলো গ্রাউন্ড গেটওয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেটের বিস্তৃত নেটওয়ার্কে তথ্য পাঠায়।
নতুন প্রজন্মের কিছু স্টারলিংক স্যাটেলাইটে লেজার যোগাযোগ প্রযুক্তি যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে স্যাটেলাইটগুলো সরাসরি একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এতে গ্রাউন্ড স্টেশনের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদানের গতি ও নেটওয়ার্কের বৈশ্বিক পরিধি বাড়ছে।
ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতিতেও স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্থানীয় গ্রাউন্ড গেটওয়ে না থাকলেও টার্মিনালগুলো প্রতিবেশী দেশের গেটওয়ের সঙ্গে সংযুক্ত স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা পেতে পারে।
স্টারলিংক টার্মিনাল একই সঙ্গে অ্যান্টেনা ও রাউটার হিসেবে কাজ করে। ফলে স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।
ডার্কনেভির দাবি, টার্মিনালের নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেদ করে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার ফলে এখন গবেষকেরা স্টারলিংকের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নিরাপত্তা আরও গভীরভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ পাবেন।